ইতিহাস পড়ো, কেরিয়ার গড়ো :
![]() |
| ইতিহাস পড়ো, কেরিয়ার গড়ো |
Study history, build a career.
ইতিহাস কী :
ইতিহাস হল মানব সভ্যতার ক্রম বিবর্তনের ধারাবাহিক বিবরণ। তাই ইতিহাস জানা মানে মানব সভ্যতা কিভাবে এগিয়ে আজকের উন্নত তার ও পর্যায়ে পৌঁছেছে তার খুঁটিনাটি জানার সুযোগ। এই সুযোগ পেতে হলে আমাদের ইতিহাস বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইতিহাস শুধুমাত্র অতীতের পচা গলা অবশেষে নয়। ইতিহাস আগামী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
ইতিহাস কেন পড়বো :
ইতিহাসে অনার্স কোর্স শুধু ঐতিহাসিক ঘটনাবলির গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে না, সেই সঙ্গে সমালোচনামূলক চিন্তা, বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতাও তৈরি করে। ইতিহাসে গবেষণা, দক্ষতা, উচ্চতর ডিগ্রি প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীকে আলাদা সুবিধে দেয়। একইসঙ্গে রাজনীতিতে কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করে।
ইতিহাস পড়ার যোগ্যতা :
স্বীকৃত বোর্ড থেকে ১০+২ বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ৫০% থেকে ৬০% নূন্যতম নম্বর চায়, তবে মার্কসের তারতম্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। কিছু কলেজ মেধার ভিত্তিতে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রবেশিকার পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র নির্বাচন করে।ইতিহাসের পাঠ্যক্রম :
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রমে পার্থক্য থাকতে পারে, মূল বিষয়গুলি হলো: প্রাচীন ভারতের ইতিহাস, মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাস, আধুনিক ভারতের ইতিহাস। আছে বিশেষ বিষয়। যেমন, জেন্ডার হিস্ট্রি, পরিবেশ ইতিহাস, অথবা সাংস্কৃতিক ইতিহাস (বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের ওপর নির্ভর করে)। অনার্সে পড়ার সময়ে ছাত্রছাত্রীরা গবেষণা প্রকল্প, মাঠ সমীক্ষা, ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবহারিক শিক্ষা লাভ করে।উচ্চতর পড়াশোনার সুযোগ :
ইতিহাস অনার্সের স্নাতকরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এবং নানা ধরনের চাকরির সুযোগ বাড়াতে পারেন।১) ইতিহাসে স্নাতকোত্তর:
প্রাচীন, মধ্যযুগীয়, বা আধুনিক ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ হওয়া।২) ইন্টার ডিসিপ্লিনারি স্টাডি:
প্রত্নতত্ত্ব, জাদুঘর বিদ্যা, এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ে পড়াশোনা করা।
৩) পেশাগত কোর্স:
সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি, সাংবাদিকতা বা আইন নিয়ে পড়াশোনা
৪) গবেষণার সুযোগ:
অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়তে পিএইচডি করা, নেট, সেট পরীক্ষা দেওয়া গবেষণামূলক শিক্ষার অন্তর্গত।
৫) বিদেশে পড়ার সুযোগ:
বিশ্বের বহু নামী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারেন। তার জন্য নানা স্কলারশিপ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ :
✅ রোডস স্কলারশিপ (UK):
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য।✅ চিভনিং স্কলারশিপ (UK):
ইউকের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য।✅ ফুলব্রাইট-নেহরু মাস্টার্স ফেলোশিপ (USA):
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য।
✅ DAAD স্কলারশিপ (জার্মানি):
মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য
✅ ভানিয়ার কানাডা গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ (কানাডা):
পিএইচডি পড়ুয়াদের জন্য ইউএসএ, ইউকে, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলিই পড়ুয়াদের ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনার পর সেরা গন্তব্য। এই সমস্ত দেশেই পড়াশোনার পর দেশে ফিরে অধ্যাপনা-সহ নানা ধরনের পেশা গ্রহণের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনই আবার বিদেশেও নানা ধরনের পেশায় নিজেকে ফিট করতে পারবেন পড়ুয়ারা। কেবল বিদেশের ক্ষেত্রে কমিউনিকেশন স্কিলের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে পড়ুয়াদের।কেরিয়ার তৈরির সুযোগ:
উচ্চশিক্ষিত এবং সাধারণ মানুষ, এমনকি অভিভাবকদের মধ্যেও এমন ধারণা রয়েছে যে ইতিহাস পড়া একেবারেই বেকার। যারা মেধাবী নয়, অর্ডিনারি ছাত্র তাদের জন্যই ইতিহাস। এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, ইতিহাস পড়ার কিছু সুবিধা আছে এবং তাই উজ্জ্বল কেরিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
১) শিক্ষা এবং গবেষণা:
অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ, গবেষক২) সিভিল সার্ভিস:
ভারতীয় এবং বিশ্ব ইতিহাসের গভীর জ্ঞান থাকায় ইতিহাস স্নাতকরা ইউপিএসসি-র পরীক্ষায় সফল হন।৩) জাদুঘর এবং আর্কাইভ:
কিউরেটর, আকাইভিস্ট বা হেরিটেজ ম্যানেজার হিসেবে কাজ।
৪) মিডিয়া এবং সাংবাদিকতা:
পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইতিহাস নির্ভর বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা, বিশেষজ্ঞের মতামত দেওয়া।
৫) পর্যটন এবং ভ্রমণ:
ট্যুর গাইড বা হেরিটেজ কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করা।৬) প্রকাশনা এবং লেখালেখি:
বই লেখা বা ইতিহাস বিষয়ক জার্নালে অবদান রাখা।------------xx-----------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন